চা বেচাকেনায় সর্বনিম্ন মূল্যস্তর সংশোধন করেছে বাংলাদেশ চা বোর্ড। এ কারণে চায়ের চাহিদা আগের তুলনায় কমেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে চাহিদা কমলেও চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক নিলামে ১০ সপ্তাহ ধরে স্থিতিশীল আছে পণ্যটির দাম।
নিলাম বাজার সূত্রে জানা গেছে, মৌসুমের ১১তম নিলামে চায়ের গড় দাম ছিল কেজিপ্রতি ২৫১ টাকা। পরের নিলামে (১২তম) গড় দাম কিছুটা কমে ২৫০ টাকা ৩৭ পয়সায় নেমে আসে। এরপর তা আরো কমে ১৩, ১৪ ও ১৫তম নিলামে দাম স্থির হয় যথাক্রমে ২৪৯ টাকা ৭৪ পয়সা, ২৪৫ টাকা ৯৩ পয়সা ও ২৪৫ টাকা ৫৮ পয়সায়। ২০তম নিলামে চায়ের গড় দাম ছিল ২৫২ টাকা।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে বর্তমানে চা উৎপাদনের ভরা মৌসুম হলেও বাজারে চাহিদা তুলনামূলক কম। এ কারণে নিলামে বিক্রির পরিমাণ কমে গেছে। সর্বশেষ ১০টি নিলামে প্রতি কেজি চায়ের গড় দাম ছিল ২৪৮ টাকা ৬৮ পয়সা। মৌসুমের প্রথমার্ধে নিলাম থেকে গড়ে ৭০-৮০ শতাংশ চা বিক্রি হলেও বর্তমানে তা কমে এসেছে। সর্বশেষ কয়েকটি নিলামে চায়ের বিক্রির পরিমাণ সর্বনিম্ন ৫৮ শতাংশে নেমে যায়। এ কারণে ভরা মৌসুমে সবচেয়ে উৎকৃষ্ট মানের চা এলেও নিলামে চাহিদা কম থাকায় দাম স্থিতিশীল ছিল।
একাধিক ব্রোকার প্রতিষ্ঠানের নিলাম প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, চলতি মৌসুমের ১১তম চট্টগ্রাম নিলামে সর্বোচ্চ ৮৩ দশমিক ৪০ শতাংশ চা বিক্রি হয়। এর পরের ১২তম নিলামে বিক্রির পরিমাণ কিছুটা কমে ৭৭ দশমিক ৭৮ শতাংশে নেমে আসে। ১৮তম নিলামে তা ছিল ৫৮ দশমিক ১৫ শতাংশ। পরবর্তী সময়ে ১৯ ও ২০তম নিলামে বিক্রির পরিমাণ দাঁড়ায় যথাক্রমে ৬০ দশমিক ৬০ ও ৬৮ দশমিক ৭২ শতাংশ।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, জুন-অক্টোবরের মধ্যে সবচেয়ে ভালো মানের চা নিলামে বিক্রির জন্য সরবরাহ হয়। নভেম্বর থেকে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে এলে চায়ের গুণগত মান ও পরিমাণও নিম্নমুখী হয়। সে সময় পণ্যটির দাম আরো কমে যেতে পারে।
চা নিলাম বাজারের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠান প্রডিউস ব্রোকার্সের কর্মকর্তা সুজিত ভট্টাচার্য বণিক বার্তাকে বলেন, ‘চায়ের সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও চাহিদা তুলনামূলক কম। তবে সর্বনিম্ন মূল্যস্তর বৃদ্ধির কারণে দাম অনেকটা স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। বাজারে চাহিদা না বাড়লে নিলামে প্রভাব পড়বে না। আগামী কয়েক মাস বাগানে উৎপাদন ও মান কমলে চায়ের দাম আরো কমে আসতে পারে।’